মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Kushtia DC Towhid Bin Hasan, the Bureaucratic ‘Lord’ Mindset, and a Satirical Take! কুষ্টিয়ার ডিসি তৌহিদ বিন হাসান, আমলাতন্ত্রের ‘লর্ড’ মানসিকতা ও একটি রম্য রচনা! কখন এবং কী কারণে আইনজীবী সনদ বাতিল হতে পারে? কুষ্টিয়ার ‘ফুসফুস’ কি তবে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে? ডি-টাইপ কোয়ার্টারের সবুজ চত্বর ফিরিয়ে দিন! ব্যবসায়ী থেকে গভর্নর: আর্থিক খাতে নতুন চমকের নাম মোস্তাকুর রহমান : অয়ন আহমেদ পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সাথে বিশ্বশান্তি কুঠির প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ একুশে বইমেলায় আসছে সাংবাদিক মোস্তফা খানের উপন্যাস ‘একটি কলমের দাম’ তারেক রহমানকে সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’র অভিনন্দন দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন: মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জা‌তিক সংলাপ

কুষ্টিয়ার ‘ফুসফুস’ কি তবে ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে? ডি-টাইপ কোয়ার্টারের সবুজ চত্বর ফিরিয়ে দিন!

Reporter Name / ২৮৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
কুষ্টিয়া শহরের বুক চিরে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ডি-টাইপ কোয়ার্টার। যার একদিকে ঐতিহ্যবাহী কলকাকলী স্কুল, অন্যদিকে জেনারেল হাসপাতাল আর জেলা জজ কোর্টের ব্যস্ত পথ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আর সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতের এই মূল ধমনীর পাশেই এখন তৈরি হচ্ছে ময়লার স্তূপ। শহরের ব্যস্ততম ও সংবেদনশীল এই এলাকায় বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অপূরণীয় হুমকির সংকেত।
আমাদের প্রচলিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী, জনবহুল এলাকা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সন্নিকটে কোনোভাবেই বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র বা ভাগাড় স্থাপন করা যাবে না। হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় এমন সিদ্ধান্ত সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর পথ প্রশস্ত করে। প্রশ্ন জাগে, পরিবেশ অধিদপ্তর কি এই ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত? যেখানে বাতাস হওয়ার কথা ছিল নির্মল, সেখানে কি বিষাক্ত মিথেন আর দুর্গন্ধই হবে আমাদের প্রাপ্য?
অদূরেই কলকাকলী স্কুল। শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ যেখানে গড়ে উঠছে, সেখানে পচনশীল বজ্যের দুর্গন্ধ তাদের বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের জন্য এই উৎকট গন্ধ ও রোগজীবাণু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সাদ্দাম বাজারের মতো কাঁচাবাজারের পাশেই ভাগাড়ের উপস্থিতি খাদ্যের গুণগত মানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
শহরের জরাজীর্ণ দুটি ভবন সংস্কার করে যেখানে আবাসন সংকট মেটানো যেত অথবা খেলার মাঠটিকে পুনরায় জীবিত করে যুবসমাজের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা যেত, সেখানে ‘ময়লার ভাগাড়’ কোনোভাবেই কাঙ্খিত সমাধান হতে পারে না।
আমরা চাই
১। বিকল্প স্থান নির্বাচন: জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হোক।
২। পরিবেশ রক্ষা: ডি-টাইপ কোয়ার্টারের সেই হারানো সবুজ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হোক।
৩। আইনের প্রয়োগ: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা হোক।
কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ কেবল উন্নয়ন চায় না, তারা চায় নিশ্বাস নেওয়ার মতো একটু নির্মল বাতাস। রাতের আঁধারে দেয়াল ভেঙে নাগরিক অধিকারকে যেন গুঁড়িয়ে দেওয়া না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ এই শহরের পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দনকে অনুভব করুন। ভাগাড় নয়, আমরা একটি সবুজ ও বাসযোগ্য কুষ্টিয়া ফিরে পেতে চাই।
ডি-টাইপ কোয়ার্টার আমাদের শৈশব, আমাদের খেলাধুলা আর আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। একে ধ্বংস নয়, বরং সংরক্ষণের মাধ্যমে কুষ্টিয়াকে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত শহর হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জনমনে স্বস্তির বাতাস তখনই ফিরবে, যখন এই ভাগাড় তৈরির পরিকল্পনা স্থগিত করে এলাকাটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সকল পক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। প্রয়োজনে আইনি লড়াই লড়ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives